Google AdSense

আর্টিকেল লেখার নিয়ম-কিভাবে একটি আকর্ষণীয় আর্টিকেল লিখবেন?

আর্টিকেলের শুরুতে সংক্ষেপে লিখে দিতে হবে আপনি কি লিখতে যাচ্ছেন। সর্বোচ্চ ১০০ শব্দের মধ্যে অবশ্যই আপনার আর্টিকেল সম্পর্কে কিছু ইনফরমেশন লিখে দিবেন। ইন্ট্রো এমনভাবে লিখুন যা দেখে পাঠক পুরো আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আগ্রহী হয়। সহজভাবে ভাবুন একটা মুভির ট্রেইলার দেখে পছন্দ না হলে ওই মুভিটা কিন্তু কেউ দেখতে চাইবে না।

তারপর সবার আগে আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে আপনি আসলে কোন বিষয়ের উপর আর্টিকেল লিখবেন। ফোকাস কীওয়ার্ড: আপনি যখন আর্টিকেল লেখার বিষয় খুঁজে পান। তারপর আপনাকে কীওয়ার্ড খুঁজে বের করতে হবে। অর্থাৎ, লোকেরা টাইপ করে সেই বিষয়টি অনুসন্ধান করে।

আপনাকে সেই অনুসন্ধানযোগ্য লেখাগুলো সংগ্রহ করতে হবে। তারপরে আপনি যে নিবন্ধটি লিখছেন তাতে এই ফোকাস কীওয়ার্ডগুলি রাখতে হবে।

নিবন্ধের শব্দ সংখ্যা:

একটি আর্টিকেল লেখার আগে, আপনি নিবন্ধে আসলে কত শব্দ লিখবেন তা নির্ধারণ করতে হবে। তবে এই শব্দের সঠিক পরিমাণ বলা সম্ভব নয়। কারণ অনেক সময় 2 হাজার শব্দের একটি আর্টিকেল লিখতে হবে, আবার কখনও কখনও 5 হাজার শব্দের একটি আর্টিকেল লিখতে হবে।

কেন ব্লগে আর্টিকেল লিখতে শিখবেন?

এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে ভাই, আর্টিকেল কাকে বলে বুঝলাম। কিন্তু ব্লগে আর্টিকেল লিখতে শিখবেন কেন? আর না শিখলেই বা সমস্যা কোথায়?

যেহেতু আপনি এখনও এই আর্টিকেল পড়ছেন তাই আপনি আমার মতো একজন ব্লগার এবং আপনার একটি ব্লগ আছে, তাই না? এবং একজন ব্লগার হিসাবে আপনার একটি জিনিস জানা উচিত যেআর্টিকেল ছাড়া কোন ব্লগ সম্পূর্ণ হয় না।

কারণ আপনি যখন একটি ব্লগ তৈরি করেন। তাহলে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে আপনার ব্লগে ভিজিটর আসবে। কিন্তু সেই দর্শকরা দৈবক্রমে আসবে না বরং, যখন আপনি আপনার ব্লগে একটি আর্টিকেল প্রকাশ করবেন।

তখনই আপনার ব্লগে ভিজিটর আসতে শুরু করবে।

আপনিও অর্থ উপার্জনের স্বপ্ন দেখেন। তাহলে আপনিও বাংলা আর্টিকেল লিখে আয় করার সুযোগ পাবেন। আপনি যে ব্লগে আর্টিকেল লিখবেন তা থেকে আপনি একটি ভাল পরিমাণ আয় করতে পারেন।

অথবা আপনি যদি লেখার সেবা প্রদান করেন। তারপরও আপনি প্রচুর অর্থ উপার্জনের সুযোগ পাবেন।

আর্টিকেল রাইটিং বা কন্টেন্ট রাইটিং কারা করতে পারবেন? 

আর্টিকেল রাইটিং এর কথা বলতে গেলে তা সবাই করতে পারবেন তবে বেশি ভালোভাবে বলতে গেলে  ইংরেজীতে যাদের  রয়েছে অগাধ দক্ষতা তারাই নিজেদেরকে কন্টেন্ট রাইটার বা আর্টিকেল রাইটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন খুব সহজেই। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে আর্টিকেল লেখা হয়ে থাকে ।

ব্লগ আর্টিকেল ছাড়াও প্রোডাক্টের রিভিউ, সার্ভিসের সেলস  ফেইসবুক পেজ, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য রিসোর্স বুক বা বই, ব্রশিউর,  এছাড়াও লিফলেট বা অন্যান্য প্রচারণার কাজে রাইটারদের আর্টিকেল লিখার বহুল প্রয়োজন পড়ে থাকে। তবে আর্টিকেল লেখার নিয়ম আপনাকে ভালোভাবে জানতে হবে।

কিভাবে একটি আকর্ষণীয় আর্টিকেল লিখবেন?

কন্টেন্ট রাইটিং টিপস-

এ পর্যায়ে আমরা আর্টিকেল রাইটিং টিপস সমন্ধে আলোচনা করব। যার মাধ্যমে কিভাবে একটি আকর্ষণীয় আর্টিকেল লিখবেন সেই প্রশ্নের জবাব আপনি পেয়ে যাবেন। চলুন তবে দেখে নেয়া যাক।

কিভাবে একটি আকর্ষণীয় আর্টিকেল লিখতে হয় সে বিষয়ে নিচে আলোচনা করা হলো-

যারা কন্টেন্ট রাইটিং পেশা নিয়ে আছেন তারা অবশ্যই এটা জানেন যে, একটি আর্টিকেল তথা একটা কনটেন্ট একটা ওয়েবসাইটের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে ।ইংরেজিতে কিছু প্রবাদ বাক্য রয়েছে এমন  Content Is King for a Website। সুতরাং ধারণা করাই যায় যে আর্টিকেল একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইটের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই বিষয়টী অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে আাপনার লেখা আর্টিকেল হতে হবে মানসম্মত।

দিনে দিনে ১০ থেকে ২০ টি আর্টিকেল পোস্ট করে আপনি কখনোই সাফল্য পাবেন না। সাফল্য পাবেন ঠিক তখনই যখন আপনি একটি কোয়ালিটি আর্টিকেল নিজের ক্লায়েন্টকে দিবেন। ফলে আপনার সমৃদ্ধিও হবে। আমরাই তাই  কিভাবে একটি আকর্ষণীয় আর্টিকেল লিখবেন তার উপরে জোর নজর দিতে চাই।

আর্টিকেলের বিষয় নির্বাচন বা ক্লায়েন্ট কতৃক ধার্যিত আর্টিকেলঃ

একটি আকর্ষণীয় আর্টিকেল লিখতে হলে আপনাকে কন্টেন্ট বা আর্টিকেলের জন্য একটি বিষয় নির্বাচন করতে হবে। বা আপনার যদি ক্লায়েন্ট থেকে থাকে তবে তার ধার্যিত আর্টিকেলে বিষয় দেখতে হবে।  আপনাকে একটি সহজ টপিক নির্বাচন বা নিজের ক্লায়েন্ট এর আর্টিকেলটি এর উপর জোর নজর দিতে হবে। এবং তা সম্পর্কে আপনাকে পর্যাপ্ত তথ্য নিতে হবে। একবার যখন আপনি ভালো মানের রিসার্চ বা তথ্য নিতে পারবেন তখনই কাজ শেষ এবং তাহলেই আপনি  একটি ভালো মানের আর্টিকেল লিখতে পারবেন। সুতরাং এখানে বিষয় নির্বাচন এবং বিষয়ের উপর পড়াশোনা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

একটি ভালো মানের পাশাপাশি একটি আকর্ষণীয় আর্টিকেল লিখতে হলে যে বিষয়গুলি অবশ্যই মেনে চলতে হবে তা আপনার জন্য নিচে দেয়া হলোঃ

আর্টিকেল টপিক নিয়ে গবেষণা করাঃ

যে বিষয়টি নির্ধারণ করলেন বা আপনার ক্লায়েন্ট কতৃক ধার্যিত টপিকে আপনাকে এখন পর্যাপ্ত পরিমাণ গবেষণা করতে হবে। গবেষণার মূল মাধ্যম হলো অনলাইন এবং যদি বাংলা আর্টিকেল লিখে থাকেন তবে তার জন্য ইংরেজি কন্টেন্ট। আপনাকে কয়েকটি আর্টিকেল পড়তে হবে। একটি কথা আছে আপনাকে একজন ভালো পাঠক হতে হবে একজন লেখক হওয়ার আগে। তাই আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ গবেষণা করতে হবে।

আর্টিকেলে আপনাকে অবশ্যই হেডলাইন এর ব্যবহার যথাযথভাবে করতে হবেঃ

আর্টিকেল লেখার জন্য বা ভালো কন্টেন্ট লেখার জন্য আপনাকে অবশ্যই হেডলাইনের ব্যবহারের কথা মাথায় রাখতে হবে। কেননা হেড লাইন বা টাইটেলই পারে একটি ভালো কন্টেন্ট এবং আকর্ষণীয় কন্টেন্ট তৈরি করতে। যথাযথ হেডলাইন এর জন্য আপনি আপনার বিষয় সমন্ধিত আরও কিছু পোস্ট দেখে নিতে পারেন। এতে করে আপনার টাইটেল বা হেড লাইন সমন্ধিত আপনার একটি ধারণা হয়ে যাবে।

এছাড়াও টাইটেল এর বাইরে আপনাকে যে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে তা হলো ইন্টারনাল বা অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন টাইটেল ঠিক রাখা। যেমন কোনো প্যারাগ্রাফ এর শুরুর হেড লাইন বা কোন সাব হেড লাইন ইত্যাদি আপনাকে দিতে হবে ভালো করে। অনেকেই পুরো আর্টিকেলটি কখনোই পড়বে না। তারা বেঁছে বেঁছে কিছু অংশ পড়বে। তাই আপনাকে কন্টেন্ট এর হেড লাইন গুলো ভালো ভাবে দিতে হবে।

শুদ্ধ বানান এবং ব্যাকরণ রীতি ঠিক রাখাঃ

আপনাকে অবশ্যই বানানের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে কেননা একটি কন্টেন্ট এর মূল হলো বানান। আর ভুল বানান হওয়া একজন মূর্খের কাজ। তাই কেউ যদি আপনার আর্টিকেলে বানান ভুল খুঁজে পায় তাহলে সে আপনার কন্টেন্ট নাও পড়তে পারে। পাশাপাশি বানানরীতি এর প্রতিও বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। আরেকটি বিষয় যা আপনার সামনে উদঘাটন করার প্রয়োজন বোধ করছি তা হলো সাহিত্য রচনা না করে নিজের ভাষায় সহজ করে লেখা। ওয়েব কন্টেন্ট এ আপনি কখনো ছোট গল্প বা উপন্যাস লিখতে পারবেন না। অন্যের বোঝার জন্য শুদ্ধ বানানের পাশাপশি ভাষাও সহজ করতে হবে।

ভিজিটরদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবেঃ

আপনি কন্টেন্ট লিখছেন একজন ভিজিটর এর জন্য। তাই আপনার মূল টার্গেট থাকবে ভিজিটর এর দৃষ্টি আকর্ষণ যা আপনাকে একেবারে শুরুতেই করতে হবে। কেননা একটি জরিপে দেখা গেছে যে ৪০% এর মতো ভিজিটর শুধুমাত্র ইন্ট্রো পড়েই আর্টিকেলটি দেখবে না দেখবে না তা নির্বাচন করে। তাহলে আপনি বুঝতেই পারছেন আপনাকে একজন ভিজিটর বা পাঠক ধরে রাখার জন্য কতটা কাঠ কয়লা পোড়াতে হবে। তাই আপনার প্রতি পরামর্শ এটাই যে একাবারে শুরুতেই আপনি ভিজিটরের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করবেন। তাহলে ইন্ট্রো ঠিক করার পিছনে আপনার সময় ব্যয় করুন।

ছবি এবং ভিডিও ব্যবহার ( যদি লাগে)ঃ

আর্টিকেল যদি কোন সাইটের জন্য লিখে থাকেন তাহলে আপনাকে অবশ্যই ছবি কিংবা ভিডিও এর ব্যবহারের প্রতি নজড় দিতে হবে। ছবি বা ভিডিও দেয়ার মাধ্যমে তা পাঠকের মাঝে আরও বেশি ভালো মর্যাদা পূর্ণ আর্টিকেল হিসাবে পরিগণিত হবে। তাই সর্বদাই চেষ্টা করবেন ছবি ও ভিডিও এর ব্যবহার করার আপনার কন্টেন্টের ভিতরে। এতে করে আরও বেশি লোক আপনার প্রতি আকৃষ্ট হবে। মাথায় রাখবেন পয়েন্টই।

টেবিল কন্টেন্ট বা ছোট ছোট প্যারার ব্যবহারঃ

আপনি যদি ৬০০০ শব্দের একটি আর্টিকেল লিখেন তাহলে তা কিন্তু অনেক বড় হয়ে যাবে। এবং আপনি যদি একটানা তা লিখতেই থাকেন তবে পাঠক তা পড়তে পড়তে হাঁপিয়ে উঠবে। পরবর্তীতে কোনো ভিজিটর আসার চান্সও কমে যাবে। তাহলে কি আপনি ৬০০০ শব্দের কন্টেন্ট লিখবেন না?

কেন লিখবেন না? অবশ্যই লিখবেন। আপনাকে ৬০০০ শব্দের কন্টেন্ট লেখার জন্যই আমি আগ্রহ দিব। কিন্তু তা হতে হবে ছোট ছোট প্যারা সহকারে। ৬০০০ শব্দকে আপনাকে বেঁছে নিতে হবে কয়েকটি প্যারাতে। আর আপনি যে আর্টিকেলই দেখেন না কেন তার মাধ্যে এই জিনিসটা অবশ্যই দেখে থাকবেন টেবিল কন্টেন্ট এর ব্যবহার বা ছোট প্যারাগ্রাফ এর ব্যবহার। এর মাধ্যমে আপনি স্ট্রাকচার সমন্ধে একটা ধারণা পেয়ে যাবেন এবং কন্টেন্ট লেখার অনুশীলন থেকে যাবে। তাই উক্ত বিষয়টি মাথায় রাখবেন।

আরো পড়ুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.