বিনেদন

গাভীর ওলান প্রদাহ রোগের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার 2022

বিভিন্ন কারণে গাভীর ওলান প্রদাহ রোগ হতে পারে। গাভীর ওলানের দুগ্ধ ও বাঁটের প্রদাহকে সাধারণত ম্যাস্টাইটিস বা ওলান প্রদাহ বলে। এ রোগে ওলানের গ্লান্ডুলার টিস্যুর প্যাথলজিকাল পরিবর্তনের ফলে দুধের বাহ্যিক ও রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে। আসুন জেনে নেই গাভীর ওলান প্রদাহ রোগের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে।

বিভিন্ন প্রকার জীবাণু দ্বারা গাভীর ওলান ফুলা বা প্রদাহ মরণঘাতি রোগে আক্রান্ত হতে পারে। দ্রুত উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে গরুর ওলান আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

দ্রুত চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। হাতুরে ডাক্তারের চিকিৎসার মারত্মক ক্ষতি হতে পারে। মনে রাখতে হবে, এ রোগটি জটিল প্রকৃতির বিধায় পশুচিকিৎসকের পরামর্শমত চিকিৎসা করানো উচিৎ।

এ রোগ একটি গাভীর যে কোনো সময় হতে পারে তবে বাছুর প্রসবের পরেই গাভী বেশি আক্রান্ত হয়।গাভীর ওলান প্রদাহ রোগের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

রোগের কারণঃ

গাভীর ওলান প্রদাহ বিভিন্ন প্রকার অনুজীব যেমন- ব্যাকটেরিয়া, মাইকোল্পাজমা ও ছত্রাক দিয়ে হয়। সাধারণতঃ স্ট্রেপটোকক্কাই ও স্টেফাইলোকক্কাই জাতীয় গ্রাম পজেটিভ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা হয় এবং সহযোগী হিসেবে ই. কলাই, করাইনিব্যাকটেরিয়াম প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া ম্যাস্টাইটিস রোগের কারণ হতে পারে।

রোগের লক্ষণঃ

১. ওলান লাল হয়ে ফুলে ওঠে এবং হাত দিলে গরম বোধ হয়।
২. ব্যাথার জন্য গাভী ওলানে হাত দিতে দেয় না।
৩. গাভীর পিছনের পা দুটি ফাঁক করে দাঁড়িয়ে থাকে ও শুতে পারে না।
৪. শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় (১০৪-১০৭ ডিগ্রী ফাঃ) ।
৫. বাটগুলো অত্যন্ত শক্ত হয়ে যায় ও সহজে দুধ বের হয় না।
৬. দুধের রং হলুদ পুঁজের মতো দেখায় এবং পরবর্তীতে রক্ত মিশ্রিত ও দুর্গন্ধযুক্ত দুধ বের হয়।
৭. আক্রান্ত বাঁট বন্ধ হয়ে যায় এবং কোন কোন ক্ষেত্রে পঁচন ধরে খসে পড়ে।
৮. মারাত্মক অবস্থায় পৌছে গেলে প্রাণির মৃত্যু ঘটে।

চিকিৎসাঃ

এ রোগের চিকিৎসা দ্রুত হওয়া আবশ্যক। চিকিৎসায় বিলম্ব হলে ওলানের মারাত্মক ক্ষতি হবার সম্ভবনা থাকে। এতে দুধ চিরদিনের জন্য কমে বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা মাত্রই নিকটস্থ ভেটেরিনারী চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা শুরু করা উত্তম।

প্রতিরোধঃ

১. দুধ দোহনের পূর্বে দোহনকারীর হাত ও ওলান জীবাণুনাশক দিয়ে ভালভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
২. দুগ্ধবর্তী গাভীকে পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন ও শুষ্ক স্থানে রাখতে হবে।
৩. দুগ্ধবর্তী গাভীর ওলান যাতে আঘাতপ্রাপ্ত না হয় সে দিকে নজর রাখতে হবে।
৪. আক্রান্ত ওলান গরম ও ফোলা থাকলে ও ব্যাথাযুক্ত হলে প্রথমে বরফ বা ঠান্ডা পানি আক্রান্ত ওলানে ঢালতে হবে।
৫. ওলানেদুধ জমে গেলে মিল্ক সাইফন নামক যন্ত্র দিয়ে বের করে দেয়া যায়।
৬. আক্রান্ত গাভীকে আলাদা করে রাখতে হবে।
৭. দুধ দোহনের পর গাভীকে খাবার দিতে হবে। কেননা দুধ দোহণের পর হতে ২ ঘন্টা পর্যন্ত বাঁটের মুখ খোলা থাকে বিধায় অতি সহজে জীবাণু এ সময় বাঁটের মুখে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটায়।
৮. দুধ দোহনের পর গাভীর বাঁটকে জীবাণুনাশক সলুশনে ডুবিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
৯. ওলান শক্ত হয়ে গেলে কর্পূর গুড়ো করে সরিষার তেলের সাথে মিশিয়ে বাটে লাগাতে হবে। (তাপ থাকলে এবং chronic stage এ ভাল কাজ করে না। কিন্তু Acute stage এ ভাল কাজ করে)।

Olan inflammation of cows can be caused by various reasons. Inflammation of the udder and udder of cows is commonly called mastitis or udder inflammation. In this disease, pathological changes in the glandular tissue of the uterus result in external and chemical changes in the milk. Let’s know about the causes, symptoms and remedies of cow’s udder disease.

Cause of the disease:

Inflammation of the udder of cows is caused by different types of microorganisms such as bacteria, mycoplasma and fungi. Streptococcus and Staphylococcus aureus are usually caused by Gram-positive bacteria and are associated with E. coli. Bacteria such as Corynebacterium can cause mastitis.

Symptoms of the disease

1. Olan turns red and swells and feels hot when touched.
2. The cow does not touch Olan for pain.
3. The hind legs of the cow stand with two gaps and cannot sleep.
4. Body temperature rises (104-106 degrees Fahrenheit).
5. Butts become very hard and milk does not come out easily.
. The color of the milk looks like yellow pus and then the blood comes out mixed with blood and smells bad.
. Infected tendons become closed and in some cases fall off due to puncture.
. When it reaches a critical stage, the animal dies.

Treatment:

The treatment of this disease must be fast. Delays in treatment can lead to serious damage to Olan. This can reduce or stop the milk forever. Therefore, it is better to start the treatment on the advice of the nearest veterinarian as soon as the symptoms appear.

Prevention:

1. The milker’s hands and udder should be thoroughly cleaned with disinfectant before milking.
2. Dairy cows should be kept in a clean, hygienic and dry place.
3. Care should be taken to ensure that the udder of the dairy cow is not injured.
4. If the affected udder is hot and swollen and painful then ice or cold water should be poured on the affected udder first.
5. When the milk is frozen, it can be taken out with a device called milk siphon.
. Infected cows should be kept separate.
. After milking, the cow should be fed. Because the mouth of the udder is open for up to 2 hours after milking, germs can easily enter the udder and cause infection.
. After milking, the udder of the cow should be disinfected by dipping it in disinfectant solution.
9. Once the olan is hard, grind camphor and mix it with mustard oil. (If there is heat and it does not work well in chronic stage. But it works well in acute stage).

Leave a Reply

Your email address will not be published.