ডায়াবেটিসস্বাস্থ্য

ডায়াবেটিস থেকে বাঁচার উপায় : চিকিৎসকরা যা বলছেন

বাংলাদেশসহ বিশ্বে প্রতি সাত সেকেন্ডে একজন মানুষ ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বাংলাদেশে ডায়াবেটিসের জাতীয় পর্যায়ের তথ্য পাওয়া যায় ২০১১ সালের বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপে। এতে বলা হয়েছিল, দেশের প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের ১১ শতাংশ নারী-পুরুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। আক্রান্ত ব্যক্তিদের হার শহরে বেশি।
হাঁটাচলা, খাবার অভ্যাস ও জীবনযাপনে পরিবর্তনসহ কিছু নিয়মকানুন মানলে ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস রোগ ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব এ ছাড়া ২৫ শতাংশ নারী ও পুরুষ প্রাক্-ডায়াবেটিস পর্যায়ে আছে। অর্থাৎ তাঁদের রক্তে শর্করা নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়াবেটিস হচ্ছে জীবনধারাজনিত (লাইফস্টাইল) রোগ। কায়িক শ্রম কমে যাওয়া, কম হাঁটা, অধিক তেলযুক্ত খাবার ও ফাস্টফুড খাওয়া, খেলাধুলা না করা, স্থূল হওয়া, মানসিক চাপ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের চিকিৎসক শাহজাদা সেলিম বলেন, ‘বিষয়টি এমন নয় যে মানুষ বাড়ছে বলেই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষ বাড়ছে। ঘটনা হচ্ছে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের হার দ্রুত বাড়ছে।

এসব কারণে ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে।

জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (নিপোর্ট)-এর একটি জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে মোট ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এক কোটি ১০ লাখ। এদের মধ্যে ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের সংখ্যা ২৬ লাখ আর ৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের সংখ্যা ৮৪ লাখ।
১৯৫৬ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এই সমিতি। বর্তমানে এই সমিতির হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোয় নিবন্ধিত রয়েছেন ৪৫ লাখের বেশি ডায়াবেটিস কর্মী।

১. প্রতিদিন এক ঘণ্টা হাঁটুনডায়াবেটিস থেকে বাঁচার উপায়

ঢাকার বারডেম হাসপাতালে ডায়াবেটিক রোগীর ভিড়। বাংলাদেশে এক কোটির বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত
ড. আজাদ খান বলছেন, নগর জীবনে আমাদের শারীরিক পরিশ্রম এবং হাঁটার প্রবণতা অনেক কমে গেছে। কম্পিউটার বা মোবাইলে কাজ করতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি। কিন্তু যাদের পিতা-মাতা বা পরিবারের সদস্যদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের জেনেটিক্যালি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ফলে তারা যদি আক্রান্ত হওয়ার আগে থেকেই নিয়মিত হাঁটাচলা ও শারীরিক পরিশ্রম করতে শুরু করেন, তাহলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়া থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারবেন।

তিনি বলছেন, এজন্য প্রতিদিন নিয়ম করে অন্তত একঘণ্টা হাঁটতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। খেলাধুলা বাড়ানো যেতে পারে।
ঢাকার একজন বাসিন্দা উম্মে কুলসুমের বাবা-মায়ের ডায়াবেটিস শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই তিনিও তার মায়ের সঙ্গে নিয়মিত হাঁটেন। তার অপর দুই বোনের পরবর্তীতে ডায়াবেটিস শনাক্ত হলেও তার এখনো এই রোগটি হয়নি।

যে ১০টি লক্ষণ দেখলে ডায়াবেটিস রোগের পরীক্ষা করাতে হবে

ডায়াবেটিস সম্পর্কে যেসব জানা জরুরি
‘ওজন কমিয়ে বহুমূত্র রোগ সারানো সম্ভব’
যে সব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হতে হবে:
ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া ও পিপাসা লাগা
দুর্বল লাগা’ ও ঘোর ঘোর ভাব আসা
ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া
সময়মতো খাওয়া-দাওয়া না হলে রক্তের শর্করা কমে হাইপো হওয়া
মিষ্টি জাতীয় জিনিসের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যাওয়া
কোন কারণ ছাড়াই অনেক ওজন কমে যাওয়া
শরীরে ক্ষত বা কাটাছেঁড়া হলেও দীর্ঘদিনেও সেটা না সারা
চামড়ায় শুষ্ক, খসখসে ও চুলকানি ভাব
বিরক্তি ও মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠা
চোখে কম দেখতে শুরু করা

ফাইবার জাতীয় খাবার বেশি খান:- খাবারের তালিকায় যত বেশি করে সম্ভব ফাইবার জাতীয় খাবার রাখুন। যেমন ফল, সবজি, বিনস, দানা জাতীয় শস্য, বাদাম ইত্যাদি। ফাইবার জাতীয় খাবার বেশি খেলে তা শরীরে শর্করার শোষণ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা সকলে ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন  ডায়াবেটিস থেকে বাঁচার চেষ্টা করবেন আমাদের নিয়মিত পোস্ট দেখার চেষ্টা করবেন ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.