স্বাস্থ্য

কাঁচা পেঁপে শরীরের জন্য উপকারী নাকি ক্ষতিকর

আসসালামু আলাইকুম সুপ্রিয় দেশ এবং দেশের বাইরে ভাই ও বোনেরা আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন। আজকে যে বিষয় আপনাদের সামনে এই পেজে তুলে ধরা হয়েছে সে বিষয়টি হচ্ছে । আমাদের অজানা কিছু তথ্য আপনারা জানলে অবাক হয়ে যাবেন যে আমরা পেঁপে সম্পর্কে কতটুকু জানি । আজকে এই পেজে আমরা যে বিষয়টি তুলে ধরেছি সে বিষয়টি হচ্ছে পেঁপে বিশেষ পাঁচটি গুণ এবং পেঁপে শরীরের জন্য কতটুকু উপকারী ও কতটুকু ক্ষতিকর তাই আপনারা আমাদের এই পেজে বিস্তারিত পাবেন। নিজে পড়ুন


নিয়মিত পেঁপে খেলে সাধারণ রোগবালাই দূরেই থাকে। কোলন ও প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধে এটি উপকারী। কাঁচা অথবা পাক পেঁপে কার না ভালো লাগে। কাঁচা পেঁপের রস বিষাক্ত ও ক্ষতিকর। কাঁচা পেঁপের নির্যাস শরীরে চুলকানি সৃষ্টি করতে পারে। এটি পান করলে বদহজম, বিষক্রিয়া ও অ্যাবডোমিনালে ব্যথা হতে পারে।

কাঁচা পেঁপে শরীরের জন্য

পেঁপের বিশেষ ৫ গুণ

পেঁপে পাবেন হাতের কাছেই। দামও সহনীয়। সবজি ও সালাদ হিসেবে কাঁচা পেঁপের বেশ কদর রয়েছে। সুমিষ্ট পাকা পেঁপে রং, সুবাস আর স্বাদে অতুলনীয়। পেঁপে খেলে ওজন কমে, ত্বক পরিষ্কার হয়। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আর নানা উপকারী উপাদানে ভরপুর পেঁপে খেলে একদিকে স্বাস্থ্য যেমন ভালো থাকে, তেমনি চুল আর ত্বকের জন্যও উপকারী। খাবারে তাই পেঁপে রাখাটা জরুরি।

ওজন কমায় পেঁপে মাঝারি আকারের একটি পেঁপেতে মাত্র ১২০ ক্যালরি থাকে। এ ছাড়া এর যে পাচক তন্তু থাকে, তা হজমে সহায়তা করে।

ডায়াবেটিসে উপকারী
পেঁপে খেতে মিষ্টি স্বাদের হলেও এতে চিনির পরিমাণ কম থাকে। এক কাপ টুকরো করা পেঁপেতে ৮ দশমিক ৩ গ্রাম চিনি থাকে। ডায়াবেটিস প্রতিরোধক উপাদান আছে পেঁপেতে।

চোখের জন্য দরকারি
পেঁপেতে আছে ক্যারোটিনাইডস নামের উপাদান, যা চোখের জন্য উপকারী। পেঁপেতে টমেটো বা গাজরের চেয়েও বেশি ভিটামিন এ আছে। এ ছাড়া চোখের মিউকাস মেমব্রেনকে সবল করতে ও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে যে ধরনের উপাদান দরকার, পেঁপেতে তা অধিক পরিমাণে থাকে। বিশেষ করে বেটা ক্যারোটিন, জিয়াক্সনাথিন ও লুটেইনের মতো উপাদানগুলো পেঁপেতে বিদ্যমান।

ত্বকের সুরক্ষায়
ভিটামিন ‘এ’ আর প্যাপিন নামের উপাদান আছে পেঁপেতে, যা শরীরের ত্বকের মৃত কোষগুলো সরিয়ে ফেলতে সাহায্য করে। শরীরের নিষ্ক্রিয় প্রোটিন ভেঙে ফেলে এবং কম মাত্রায় সোডিয়াম ত্বককে আর্দ্র রাখে।

হজমি গুণ
পেঁপেতে প্যাপিন এনজাইম থাকায় তা খাদ্যের বিপাক প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। এটি মাংস নরম করতেও ব্যবহৃত হয়। এতে তন্তু ও পানির পরিমাণ বেশি থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

পেঁপের আরও গুণ
সারা বছরই পেঁপে পাওয়া যায়। পেঁপে একদিকে যেমন সবজি, অন্যদিকে ফল। কাঁচা থাকতে পেঁপে সবজি—ভর্তা, ভাজি আর রান্না করে খাওয়া যায়। পাকলে পেঁপে হয়ে যায় সুস্বাদু ফল। অতিপরিচিত পেঁপের আরেকটি নামও কিন্তু আছে, নামটি হলো অমৃততুন্বী। এর আগে বারডেম জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পুষ্টিবিদ শামছুন্নাহার নাহিদ প্রথম আলোকে পেঁপের কিছু পুষ্টিগুণের কথা বলেছিলেন।
তাঁর ভাষ্য, ‘১০০ গ্রাম পেঁপেতে শর্করা থাকে ৭.২ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৩২ কিলোক্যালরি, ভিটামিন সি ৫৭ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ৬.০ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৬৯ মিলিগ্রাম, খনিজ ০.৫ মিলিগ্রাম এবং ফ্যাট মাত্র ০.১ গ্রাম। এই উপাদানগুলো শুধু শরীরের চাহিদাই মেটায় না, রোগ প্রতিরোধেও অংশ নেয়।’ প্রচুর পরিমাণ আঁশ, ভিটামিন সি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে পেঁপেতে। এই উপাদানগুলো রক্তনালিতে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল জমতে বাধা দেয়। তাই হৃদস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং উচ্চরক্তচাপ এড়াতে পেঁপে খেতে পারেন নিয়ম করে।
শরীরের মেদ ঝরাতে যাঁরা তৎপর, তাঁদের খাদ্যতালিকায় পেঁপে রাখুন। একদিকে যেমন কম ক্যালরি আছে, অন্যদিকে থাকা আঁশ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে সবজি হিসেবে পেঁপে অনন্য। দেহের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদারে ভূমিকা রাখে পেঁপে। নিয়মিত পেঁপে খেলে সাধারণ রোগবালাই দূরেই থাকে। কোলন ও প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধে এটি উপকারী। উৎসব-পার্বণে ভূরিভোজটা একটু বেশিই হয়ে যায়। এ জন্য বিড়ম্বনাও কম হয় না। হজমশক্তি বাড়াতে এবং পেটের গোলযোগ এড়াতেও খেতে পারেন পেঁপে।

কাঁচা অথবা পাক পেঁপে কার না ভালো লাগে। তাছাড়া পেঁপে একটি উপকারী ফল।কিন্তু পেঁপেতে ব্যাকেরিয়া ও হ্যাত্রাকরোধী গুণও রয়েছে বার পেঁপে গাছের পাতা ডেঙ্গুজ্বর রোধেও কার্যকর।তা সত্ত্বেও এই ফলের কিছু খারাপ দিকও রয়েছে। তাহলে জানা যাক:-
1>যারা গর্ভবতী মহিলা রয়েছেন তারা পেঁপে না খাওয়াই ভালো।কেননা পেঁপের বীজ ও শিকড় আপনার জরায়ু সংকুচিত করে ফেলতে পারে বা গর্ভপাত ঘটাতে পারে।
2>পুষ্টিকর বলে কোনো কিছুই অতিরিক্ত খাওয়া ভালো না পেঁপে অতিরিক্ত খেলে খাদ্য নালীর উপর প্রভাব পরে।দিনে এক কাপের বেশি পেঁপে খাওয়া উচিত নয়।
3>পেঁপে গাছের পাতায় পাপাইন নামক পদার্থ আপনার গর্ভে থাকা সন্তানকে বিষাক্ত করে দিতে পারে।এছাড়াও যতদিন অবধি সন্তান বুকের দুধ খাচ্ছে ততদিন অবধি পেঁপে না খাওয়াই ভালো।
4>কাঁচা পেঁপের বোটা থেকে বের হওয়া সাদা তরল পদার্থ পানির ত্বকে এলজির সৃষ্টি করতে পারে।
5>পেঁপে রক্তে শর্করার পরিমান কমিয়ে দেয়। তাই যারা রক্ত চাপের জন্য ঔষধ নিয়ে থাকেন তাদের পেঁপে না খাওয়াই ভালো।

Leave a Reply

Your email address will not be published.