নামাজ

বক্তা থেকে শিল্পী সারাদেশ তোলপাড় করলেন মাওলানা মিজানুর রহমান সালেহী রংপুর :

আসসালামুয়ালিকুম বন্ধুরা কেমন আছেন আপনারা আজকে মুফতি মিযানুর রহমান সালেহী ভাইয়ের একটি গজল  ভাইরাল হয়েছে | সারাদেশে তোলপাড় করে দিল রংপুরের মিজানুর রহমান সালেহী | বক্তা থেকে শিল্পী সারাদেশ তোলপাড় করলেন মাওলানা মিজানুর রহমান সালেহী রংপুর |

বক্তা থেকে শিল্পী সারাদেশ তোলপাড় করলেন মাওলানা মিজানুর রহমান সালেহী রংপুর |

mawlana mizanur rahman salehi new waz ।

সূরা ইখলাস তাফসির

সূরা সম্পর্কেঃ এ সূরার বহু ফযীলত রয়েছে। তন্মধ্যে নিম্নে কয়েকটির উল্লেখ করা হলোঃ

এক. এর ভালবাসা জান্নাতে যাওয়ার কারণ;

হাদীসে এসেছে, জনৈক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এসে আরয করলঃ আমি এই সূরাটি খুব ভালবাসি। তিনি বললেনঃ এর ভালবাসা তোমাকে জান্নাতে দাখিল করবে। [মুসনাদে আহমাদ: ৩/১৪১, ১৫০]

দুই. এটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশ।

হাদীসে এসেছে, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তোমরা সবাই একত্রিত হয়ে যাও। আমি তোমাদেরকে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ শুনাব। অতঃপর যাদের পক্ষে সম্ভব ছিল, তারা একত্রিত হয়ে গেলে তিনি আগমন করলেন এবং সূরা এখলাস পাঠ করে শুনালেন। তিনি আরও বললেন, এই সূরাটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান। [মুসলিম: ৮১২, তিরমিযী: ২৯০০] এ অর্থে হাদীসের সংখ্যা অসংখ্য।

তিন. বিপদাপদে উপকারী।

হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি সকাল-বিকাল সূরা এখলাস, ফালাক ও নাস পাঠ করে তা তাকে বালা-মুসীবত থেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যে যথেষ্ট হয়। [আবু দাউদ: ৫০৮২, তিরমিযী: ৩৫, ৭৫, নাসায়ী: ৭৮৫২]

চার. ঘুমানোর আগে পড়ার উপর গুরুত্ব।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, হে উকবা ইবনে আমের আমি কি তোমাকে এমন তিনটি উত্তম সূরা শিক্ষা দিব না। যার মত কিছু তাওরাত, ইঞ্জীল, যাবুর এবং কুরআনেও নাযিল হয়নি। উকবা বললেন, আমি বললাম, অবশ্যই হ্যাঁ, আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন। উকবা বলেন, তারপর রাসূল আমাকে ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ, কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক, কুল আউযু বিরাব্বিন নাস’ এ সূরাগুলো পড়ালেন, তারপর বললেন, হে উকবা! রাত্রিতে তুমি ততক্ষণ নিদ্রা যেয়ো না, যতক্ষণ সূরা এখলাস, ফালাক ও নাস না পাঠ কর। উকবা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ সেদিন থেকে আমি কখনও এই আমল ছাড়িনি। [মুসনাদে আহমাদ: ৪/১৪৮, ১৫৮-১৫৯]

পাঁচ. এ সূরা পড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়মিত আমল ছিল।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন বিছানায় ঘুমানোর জন্য যেতেন তখন তিনি তার দু হাতের তালু একত্রিত করতেন তারপর সেখানে ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ, কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক এবং কুল আউযু বিরাব্বিন নাস’ এ তিন সূরা পড়ে ফুঁ দিতেন, তারপর এ দু হাতের তালু দিয়ে তার শরীরের যতটুকু সম্ভব মসেহ করতেন। তার মাথা ও মুখ থেকে শুরু করে শরীরের সামনের অংশে তা করতেন। এমনটি রাসূল তিনবার করতেন। [বুখারী: ৫০১৭, আবু দাউদ: ৫০৫৬, তিরমিযী: ৩৪০২]

বিষয়বস্ত্ত :

ইখলাস শুধু এ সূরাটির নামই নয় ,এখানে আলোচ্য বিষয়বস্তুর শিরোনামও

আল্লাহ স্বীয় সত্তা ও গুণাবলীতে একক ও অনন্য এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই- সেকথাই আলোচিত হয়েছে পুরা সূরাটিতে।

এ সূরাটি আসলে মক্কী । বরং এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে চিন্তা করলে একে মক্কায় একেবারে প্রথম যুগে অবতীর্ণ সূরাগুলোর অন্তরভুক্ত করা যায়।

আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনের কোন বিস্তারিত আয়াত তখনো পর্যন্ত নাযিল হয়নি। তখনো লোকেরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আল্লাহর দিকে দাওয়াতের বার্তা শুনে জানতে চাইতো : তাঁর এ রব কেমন , যাঁর ইবাদাত – বন্দেগী কারার দিকে তাদেরকে আহবান জানানো হচ্ছে। এর একেবারে প্রাথমিক যুগে অবতীর্ণ সূরাগুলোর অন্তরভুক্ত হবার আর একটি প্রমাণ হচ্ছে , মক্কায় হযরত বেলালকে (রা) তার প্রভু উমাইয়া ইবনে খালাফ যখন মরুভূমির উত্তপ্ত বালুকার ওপর চিৎ করে শুইয়ে তার বুকের ওপর একটা বড় পাথর চাপিয়ে দিতো তখন তিনি “ আহাদ ” “ আহাদ ” বলে চিৎকার করতেন। এ আহাদ শব্দটি এ সূরা ইখলাস থেকেই গৃহীত হয়েছিল।

ইসলামে সৃষ্টিকর্তার মূল ধারণাকে মাত্র চারটি বাক্যে প্রকাশ করা হয়েছে সূরা ইখলাসে—

বলো, তিনিই আল্লাহ্‌, অদ্বিতীয়! অমুখাপেক্ষী, সবকিছু তাঁর উপর নির্ভরশীল। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি। তাঁর সমকক্ষ আর কিছুই নেই!

সূরা ইখলাসের প্রতিটি শব্দের গভীরতা, যৌক্তিকতা এবং প্রভাব নিয়ে এক একটি রিসার্চ

১) قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ কুল হুয়া ল্লা-হু আহাদ

প্রথমে কু’ল শব্দটি নিয়ে বলি। কু’ল (গলার ভীতর থেকে কু বলা) অর্থ ‘বল’। সাবধান থাকবেন, শুধু ‘কুল’ অর্থ কিন্তু ‘খাও’। নামাযে সূরা ইখলাস পড়ার সময় ভুলে বলবেন না, “খাও, তিনি আল্লাহ, অদ্বিতীয়!”

একবার কয়েকজন খ্রিস্টান এসে রাসুলকে عليه السلام আল্লাহর تعالى সম্পর্কে প্রশ্ন করলো। তারা আল্লাহর تعالى সম্পর্কে নানা ধরনের আপত্তিকর মন্তব্য করে জিজ্ঞেস করলো যে, ইসলামে আল্লাহর تعالى সংজ্ঞা কী। এর উত্তর আল্লাহ تعالى নিজে দিলেন সূরা ইখলাস নাজিল করে। তিনি রাসুলকে বললেন, “বলো, তিনি আল্লাহ, …”  রাসুলের عليه السلام মুখ দিয়ে বেড়িয়ে আসলো আল্লাহর تعالى ভাষণ।[সূত্র: তাফহীমুল কু’রআন]

এবার আসি দ্বিতীয় শব্দে: “হুয়া” – “তিনি।” কেন আয়াতটি শুধুই “বল, আল্লাহ تعالى অদ্বিতীয়” হলো না? কেন এখানে “তিনি” যোগ করা হল?

“তিনি” যোগ করার উদ্দেশ্য হলো: যখন নবীকে عليه السلام খ্রিস্টান, ইহুদী, মুশরিকরা সৃষ্টিকর্তার ব্যাপারে জিগ্যেস করেছিল, আল্লাহ تعالى তাদেরকে উত্তরে বলেছেন যে, তিনি কোনো নতুন সৃষ্টিকর্তা নন। ইসলাম কোনো নতুন ধর্ম নয় যে, এখানে কোনো এক নতুন সৃষ্টিকর্তার ধারণা দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু সমগ্র সৃষ্টিজগতের একমাত্র সৃষ্টিকর্তা যে এক, তিনিই যে আল্লাহ, সেটাই এখানে ‘তিনি’ ব্যবহার করে জোর দেওয়া হয়েছে। ইসলাম কোনো নতুন সৃষ্টিকর্তাকে নিয়ে আসেনি। ইহুদী, খ্রিস্টান, আরব মুশরিকরা যেই সর্বোচ্চ “প্রভু”-কে ইতিমধ্যেই “এল্লাহি”, “এলোহিম” ইত্যাদি বলে জানতো, ইসলাম যে তাঁকেই সৃষ্টিকর্তা হিসেবে দাবি করে, সেটাই এখানে “তিনি” এর মাধ্যমে আল্লাহ تعالى তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন।

মহান আল্লাহ সুবহানাহূ ওয়া তা‘আলার অনেকগুলো সুন্দর সুন্দর নাম রয়েছে এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন,

وَلِلهِ الْأَسْمَآءُ الْحُسْنٰى فَادْعُوْهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِيْنَ يُلْحِدُوْنَ فِى اسْمَائِه

অর্থাৎ- ‘‘মহান আল্লাহ সুব্হানাহূ ওয়াতা‘আলার অনেক সুন্দর সুন্দর নাম রয়েছে। সুতরাং তোমরা সেগুলোর মাধ্যমে আল্লাহকে ডাকো আর যারা আল্লাহর নামের বিকৃতি ঘটায় তাদেরকে বর্জন করো।’’ (সূরা আল আ‘রাফ ৭ : ১৮০)

১     আল্লাহ اللَّـهُ   উপাস্য, মাবুদ

ব্যাখ্যা: আল্লাহ শব্দের অর্থ মা’বুদ বা উপাস্য। তিনি সেই সত্বা যার কাছে সমগ্র সৃষ্টিলোক তাদের সকল অভাব-অনটন ও বিপদাপদে পরম ভালবাসা,ভয়ভীতি ও বিনম্র ভক্তি-শ্রদ্ধা সহকারে ছুটে যায়।

এ নামের মধ্যেই তাঁর সকল সুন্দর নাম ও গুণাবলীর সমন্বয় ঘটেছে।

❑ কুরআনে এ নামটি মোট ২৭২৪/ প্রায় ৩৫০০বার উল্লেখিত হয়েছে।

❑  আল্লাহ তায়ালা বলেন, إِنَّنِي أَنَا اللَّـهُ لَا إِلـهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْنِي وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي

“আমিই আল্লাহ। আমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব আমার এবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে সলাত কায়েম কর।”(সূরা ত্বাহা:১৪)

সহজে সংক্ষেপে বলা যায়ঃ

  • আল্লাহ হলেন এমন সত্তা যার নিকট আপনি সাহায্যের জন্য ছুটে আসেন।
  • আল্লাহ হলেন এমন সত্তা যার জ্ঞান মানুষের মন মানসকে বিস্ময়ে স্তম্ভিত করে ফেলে।
  • আল্লাহ হলেন এমন সত্তা যার স্মরণে আপনার মন প্রশান্তি লাভ করে।
  • “আল্লাহ” হলেন এমন সত্তা যাঁর উপাসনা করা হয়।
  • “আল্লাহ” শব্দটি দ্বারা এমন এক সত্তার কথা বোঝায় যিনি উপাসনা পাওয়ার যোগ্য।

وَمَا بِكُم مِّن نِّعۡمَةٖ فَمِنَ ٱللَّهِۖ ثُمَّ إِذَا مَسَّكُمُ ٱلضُّرُّ فَإِلَيۡهِ تَجۡ‍َٔرُونَ٥٣﴾ [النحل: ٥٣]

“আর তোমাদের কাছ যে সব নি’আমত আছে, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। অতঃপর দুঃখ-দুর্দশা যখন তোমাদের স্পর্শ করে তখন তোমরা শুধু তার কাছেই ফরিয়াদ কর।”

[সূরা আন-নাহাল: ৫৩]

সৃষ্টিকর্তার প্রধান এবং সর্বাধিক পরিচিত নামটি হলো ‘আল্লাহ।’ আমাদের মালিক এবং সৃষ্টিকর্তার সবচেয়ে পরিচিত এবং কমন নাম হলো আল্লাহ

কুরআন শুরু করা হয়েছে এই নামটি দিয়ে। …. বিসমিল্লাহির রাহ মানির রাহিম। আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন।

ব্যাবিলনীয় সভ্যতার প্রাচীনতম যে পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায় তাতে এমন এক ঈশ্বরের কথা উল্লেখ আছে যার উচ্চারণ “আল্লাহ” শব্দের উচ্চারণের কাছাকাছি। এই নামটি আমরা ওল্ড এবং নিউ টেষ্টামেন্টেও পাই ‘ইলো এবং ইলোহিম’ হিসেবে।

কুরাইশদের নিকটও এই নামটি পরিচিত ছিল। বিস্ময়কর একটা ব্যাপার হলো, প্রাচীন ব্যাবিলন এবং কুরাইশদের নিকট “আল্লাহ” ছিলেন সকল ঈশ্বরের ঈশ্বর। তিনি ছিলেন প্রধান ঈশ্বর। তারা কখনো আল্লাহর জন্য কোনো মূর্তি তৈরী করেনি। কুরাইশরা আল্লাহকে চিনতো; তারা আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছিল। وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَهُمْ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ – (৪৩: ৮৭) আপনি যদি কুরাইশদের জিজ্ঞেস করেন কে তোমাদের সৃষ্টি করেছে, তারা বলবে আল্লাহ। সুতরাং তারা আল্লাহ নামটি সম্পর্কে জানতো। কখনো কখনো তারা আল্লাহর উপাসনাও করতো। কিন্তু তারা আল্লাহকে অনেক বেশি পবিত্র মনে করতো। মোটকথা আল্লাহ নামটি তাদের নিকট জানা ছিল।

আল্লাহ নামটি কোথাও থেকে উদ্গত (non-derived) হয়নি, এটি একটি প্রপার নাউন যার কোনো অর্থ নেই। কিন্তু এই মতটি খুবই দুর্বল মত

আরবি ভাষার অধিকাংশ ভাষাবিদ এবং তাফসীরকারকের মতে, প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ শব্দের অর্থ আছে। এই বিষয়ে ছয়টির অধিক মতামত পাওয়া যায়।

আরো জানুন:-

রংপুর ডেইরী ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড

ডিলিট হওয়া ছবি ও ভিডিও বের করার সহজ উপায়

মাওলানা মুফতি আবু বক্কর সিদ্দিক তুফানি-ডালিয়ার মাহফিল ডিমলা নীলফামারী

আয়াতুল কুরসী ও তাঁর ফজিলত-razuaman

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:)-এর বাড়ি | The Birth of Prophet Muhammad

ফরজ সালাতের পর সম্মিলিতভাবে দোয়া পড়া যাবে কিনা-

বিতর নামাজ সঠিক ভাবে পড়ার নিয়ম। কত রাকাত-

মোহাম্মদ এবং মুহম্মদ নামেও পরিচিত হযরত মোহাম্মদ (সা:) (৩য় অংশ)

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.