ক্রিকেট

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাংলাদেশ পায় ২৬ রানের দুর্দান্ত এক জয়।

বাংলাদেশের দেয়া ১৫৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটের খরচায় ১২৭ রানে থেমে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস। আর সেই সুবাদে বাংলাদেশ পায় ২৬ রানের দুর্দান্ত এক জয়।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হারের পর মূল পর্বে জায়গা করে নেয়ার ক্ষেত্রে শঙ্কা জাগে বাংলাদেশের। খাদের একদম কিনারায় দাঁড়িয়ে মাহমুদুল্লাহ বাহিনী দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামে ওমানের বিপক্ষে।

সেই ম্যাচে দুর্দান্ত জয় বাগিয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার আশা জিইয়ে রাখল লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।

বাংলাদেশের দেয়া ১৫৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটের খরচায় ১২৭ রানে থেমে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস। আর সেই সুবাদে বাংলাদেশ পায় ২৬ রানের দুর্দান্ত এক জয়।

বাংলাদেশের করা ১৫৩ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি ওমানের। দলীয় ১৩ রানে ওপেনার আকিব ইলিয়াসের বিদায়ের পর হাল ধরেন জাতিন্দর সিং।

উইকেটের অপরপ্রান্তে আসা যাওয়ার মিছিল চলতে থাকলেও জাতিন্দর সচল রাখেন দলের রানের চাকা। ১০ ওভারে দুই উইকেটে ৭০ রান করে বেশ ভালোমতো তখনও ম্যাচে টিকে ওমান।

সঙ্গে যোগ হয় টাইগার বোলারদের অগোছাল বোলিং। লাইন-লেংথের ঘাটতির সঙ্গে ছিল প্রতি ওভারে একাধিক লুজ বল। তার ভরপুর ফায়দা নেন জাতিন্দর।

৩৩ বলে ৪০ করে সাকিবের বলে লিটনের তালুবন্দি হয়ে জাতিন্দর বিদায় নেয়ার পর ভেঙ্গে পড়ে ওমানের ব্যাটিং লাইন আপ।

বিশেষ করে সাকিব আল হাসানের স্পিনের কোনো জবাব ছিল না আইসিসি সহযোগী দলটির কাছে। ১৭ তম ওভারে পরপর দুই বলে উইকেট নিয়ে স্বাগতিকদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

জয়ের কৃতিত্ব মেহেদী ও সাইফউদ্দিনকে দিলেন সাকিব

ওমানের বিপক্ষে ব্যাট হাতে ২৯ বলে ৪২ রানের ঝড়ো ইনিংস আর বল হাতে তিন উইকেট সাকিবকে ম্যাচসেরা বানিয়েছে। তার মতে, টানটান উত্তেজনার ম্যাচে টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করেছে মেহেদী ও সাইফউদ্দিনের বোলিং।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাঁচা-মরার ম্যাচ জয়ের কৃতিত্ব দুই বোলার মেহেদী ও সাইফউদ্দিনকে দিয়েছেন ব্যাটিং ও বোলিংয়ে উজ্জ্বল সাকিব আল হাসান।

ওমানের বিপক্ষে ব্যাট হাতে ২৯ বলে ৪২ রানের ঝড়ো ইনিংস আর বল হাতে তিন উইকেট সাকিবকে ম্যাচসেরা বানিয়েছে, তবে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে মেহেদী ও সাইফউদ্দিনের বোলিং টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করছেন সাকিব।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘সাইফউদ্দিন ও মেহেদী খুবই ভালো বল করেছে। বলতে পারেন ওরাই আমাদের আজকের জয়ের টার্নিং পয়েন্ট।’

৪৭ রানে দুই উইকেট যাওয়ার পর লম্বা সময় কোনো উইকেট না হারিয়ে খেলে যাচ্ছিল ওমান। ব্রেকথ্রু এনে দেন মেহেদী। মাকসুদকে প্যাভিলিয়নের পথ ধরানোর পাশাপাশি ম্যাচে কম রান দিয়েছেন মেহেদী। তিনি ১৪ রান দেন চার ওভারে।

একইভাবে সাইফউদ্দিন দিয়েছেন ১৬ রান। দুজনের বোলিংয়ে ওমানকে চাপে ফেলে বাংলাদেশ সুবিধা নিতে পেরেছে বলে দাবি সাকিবের।

তিনি বলেন, ‘ওদের ৮ ওভারে হয়তো ৩০ রানও হয়নি। এটা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়েছে। তাদের কৃতিত্ব দিতেই হয়।’

এ জয়ে স্বস্তি ফিরেছে টাইগার শিবিরে। স্কটল্যান্ডের কাছে হেরে ওমান ম্যাচ গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছিল।

সাকিব বলেন, ‘জ্বি, অবশ্যই একটু স্বস্তির জয়। এই জয়ের কারণে ড্রেসিংরুমের আবহটা আরও ভালো হবে বলে আমি মনে করি। স্কটল্যান্ডের সাথে আমাদের হারটা দুঃখজনক ছিল। স্কটল্যান্ড যেভাবে খেলেছে, তাদের কৃতিত্ব দিতে হবে।

‘ওমানও খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে। আমাদের অনেক হার্ডওয়ার্ক করতে হয়েছে ম্যাচে কামব্যাক করার জন্য। আমার মনে হয় এই জয় আমাদের একটু হলেও স্বস্তি দেবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
x