তথ্য

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ

আসসালামু আলাইকুম সম্মানিত ভাই ও বোনেরা আজকেই এলাম আর একটি প্রশ্ন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ কোনটি ও কয়টি এবং কয়টি বিস্তারিত আলোচনা করব আমাদের সাথে থাকুন । ২০২১ সালে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ১০০টি দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে করা ওই জরিপে বাংলাদেশের স্কোর ৬১ দশমিক ৬৭।  দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এ তালিকায় বাংলাদেশের আগে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা।

বেরিয়ে এল  শক্তিশালী দেশের তালিকা, দেখে ঘুম উড়বে ভারতের শত্রুদের

বিশ্বের যে কোনও দেশের নিরাপত্তা তার সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর শক্তির উপর নির্ভর করে। এজন্য তাদের তরফে দেশের নিরাপত্তা খাতে যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ বাজেট বরাদ্দ করা হয়। বিশ্বজুড়ে প্রতিটি দেশ, তাদের বাহ্যিক শক্তি বাড়াতে, বহিঃ শত্রুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে।

বিশ্বের এমন সর্বাধিক শক্তিশালী সেনাবাহিনীর তালিকায় প্রথম নামটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের, তাদের কাছে রয়েছে সবচেয়ে আধুনিক এবং শক্তিশালী সামরিক শক্তি। বিশ্বের এমন 10টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান চতুর্থ। তবে ভারতের অন্যতম প্রতিবেশী দেশ চীন ও পাকিস্তান সেই তালিকায় যথাক্রমে তৃতীয় ও দশম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ

১. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

  • সক্রিয় সামরিক ব্যক্তিত্ত্ব: ১,৪৭৭,৮৯৬
  • শ্রমশক্তি: ১৫৩,৬০০,০০০
  • পাওয়ার ইনডেক্স: ০.২৪৭৫
  • প্রতিরক্ষা বাজেট: $ ৬৮৯,৫৯১,০০০,০০০
  • মোট বিমান: ১৫,২৯৩
  • মোট নৌ স্ট্রেংথ: ২৯০

২. রাশিয়া

  • পাওয়ার ইনডেক্স: ০.২৬১৮
  • প্রতিরক্ষা বাজেট: $ ৬৪,০০০,০০০,০০০
  • সক্রিয় সামরিক ব্যক্তিত্ত্ব: ১,২০০০,০০০
  • শ্রমশক্তি: ৭৫,৩৩০,০০০
  • মোট বিমান: ৪,৪৯৮
  • মোট নৌ স্ট্রেংথ: ২২৪

৩. চীন

  • পাওয়ার ইনডেক্স: ০.৩৩৫১
  • প্রতিরক্ষা বাজেট: $ ১২৯,২৭২,০০০,০০০
  • সক্রিয় সামরিক ব্যক্তিত্ত্ব: ২,২৮৫,০০০
  • শ্রমশক্তি: ৭৯৫,৫০০,০০০
  • মোট বিমান: ৫,০৪৮
  • মোট নৌ স্ট্রেংথ: ৯৭২

৪. ভারত

  • পাওয়ার ইনডেক্স: ০.৪৩৪৬
  • প্রতিরক্ষা বাজেট: $ ৪৪,২৮২,০০০,০০০
  • শ্রমশক্তি: ৪৮৭,৬০০,০০০
  • মোট বিমান: ১,৯৬২
  • মোট নৌ স্ট্রেংথ: ১৭০
  • সক্রিয় সামরিক ব্যক্তিত্ত্ব: ১,৩২৫,০০০

৫. যুক্তরাজ্য

  • সক্রিয় সামরিক ব্যক্তিত্ত্ব: ২২৪,৫০০
  • শ্রমশক্তি: ৩১,৭২০,০০০
  • পাওয়ার ইনডেক্স: ০.৫১৮৫
  • প্রতিরক্ষা বাজেট: $ ৫৭,৮৭৫,১৭০,০০০
  • মোট বিমান: ১,৪১২
  • মোট নৌ স্ট্রেংথ: ৭৭

বিশ্বের যত শক্তিশালী মুসলিম রাষ্ট্র

মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নানা সময়ে শিকার হয়েছে অপশক্তির। তাদের অধিগ্রহণে থাকা প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে শুরু করে লুট হয়েছে রাজ্যক্ষমতা পর্যন্ত। সব শেষ বড় আকারে মুসলিম রাষ্ট্রের অধঃপতন ঘটে সাদ্দাম হোসেনের রাজত্ব হটানো দিয়ে। এরপর বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশ আগ্রাসনের শিকার হয়। এ কারণে মুসলিম দেশগুলো প্রতিরক্ষা খাতকে শক্তিশালী করতে তৎপর হয়ে ওঠে। সামরিক শক্তিতে অত্যাধুনিক অস্ত্রের সঙ্গে যোগ হয় সেনাদের শৃঙ্খলা, মনোবল এবং যুদ্ধ সক্ষমতা। এই তালিকায় সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসর, ইরানের পাশাপাশি বাংলাদেশের নামও রয়েছে। বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর সামরিক শক্তি নিয়ে আজকের রকমারি।

পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান

চলতি বছরে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মুসলিম দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করা যায় পাকিস্তানকে। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ এটি। এই দেশের সেনাবাহিনীতে সদস্যসংখ্যা প্রায় ৭ লাখ। অপরদিকে রিজার্ভ আর্মি আছে পাঁচ লাখের উপরে। যেখানে দেশটির মোট জনসংখ্যা ১৮০ মিলিয়ন। ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতেও অগ্রগামী। সেনা, নৌ, বিমান, মেরিন, আধা সামরিক এবং এসপিডি বাহিনী নিয়ে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী গঠিত।

পাকিস্তানের রয়েছে ৪ হাজার সাঁজোয়া ট্যাংক, ৪টি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ, ১৪টি ফ্রিগেট, ৮টি করভেট যুদ্ধজাহাজ, ২৮টি পেট্রল বোট, ৮টি সাবমেরিন, ৩২৫টি যুদ্ধবিমান, ৩০টি বোমারু বিমান, ২৫০টি জঙ্গি বিমান, ১১০টি সাঁজোয়া হেলিকপ্টার এবং ১১০টি পরমাণু অস্ত্র। পাকিস্তানের সামরিক বাজেট থাকে ৭.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি দেশটির জিডিপির ২.৭ শতাংশ। পাকিস্তানের রয়েছে শক্তিশালী সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা। বিশ্বব্যাপী পাকিস্তানি এই সংস্থা আইএসআই নামে পরিচিত। পাকিস্তানি অস্ত্র ভাণ্ডারের প্রায় ৮০ শতাংশ চীন থেকে আমদানি করা হয়। এক সময় পাকিস্তান আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলো থেকে বিপুল অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করত।

সমর শক্তিতে পূর্ণ তুরস্ক

সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে মুসলিম বিশ্বে অন্যতম শক্তিধর দেশ তুরস্ক। তুর্কি সামরিক বাহিনীর বর্তমান সদস্যসংখ্যা ৪ লাখ ১০ হাজার। আর রিজার্ভ সদস্য রয়েছে আরও এক লাখ ৭৮ হাজার ৭০০ জন। আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যসংখ্যা এক লাখ ৫২ হাজার। সব মিলিয়ে দেশটির বর্তমান সামরিক জনশক্তি ৭ লাখেরও বেশি। তুরস্কের সেনাবাহিনীর রয়েছে নিজস্ব বিমান, নৌ ও পুলিশিং ইউনিট। বাহিনীর উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ট্যাংক ৩ হাজার ৭৭৮টি, আর্মারড ফাইটিং ভেহিকেল (এএফভি) ৭ হাজার ৫৫০টি, স্বচালিত কামান (এসপিজি) ১ হাজার ১৩টি, ভ্রাম্যমাণ কামান (টিএ) ৬৯৭টি, বহুমুখী রকেট ব্যবস্থা (এমএলআরএস) ৮১১টি।

বিমান বাহিনীর অধীনে রয়েছে ৯টি যুদ্ধবিমান ঘাঁটি। এ ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও ড্রোন ঘাঁটিসহ রয়েছে আরও ১১টি ঘাঁটি ও ৪১টি সোয়াড্রন, বিমানসংখ্যা এক হাজার ৭টি, যুদ্ধবিমান ২০৭টি, প্রশিক্ষণ বিমান ২৭৬টি, হেলিকপ্টার ৪৪৫টি, সামরিক হেলিকপ্টার ৬৪টি। এ ছাড়া তুরস্কের উল্লেখযোগ্য যুদ্ধবিমানের মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক এফ ১৬ ফ্যালকন। তাদের আছে ইসরায়েলের তৈরি মনুষ্যবিহীন ১০টি বিমান আইএআই হিরন।

আরো জানুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.