ইসলাম

মোহাম্মদ এবং মুহম্মদ নামেও পরিচিত হযরত মোহাম্মদ (সা:) (৩য় অংশ)

মুহাম্মাদ (আরবি: مُحَمَّد‎‎, ২৯ আগস্ট ৫৭০ – ৮ জুন ৬৩২; মোহাম্মদ এবং মুহম্মদ নামেও পরিচিত) হলেন ইসলামের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব এবং ইসলামি বিশ্বাস মতে আল্লাহ কর্তৃক প্রেরিত সর্বশেষ নবি (আরবি: النبي আন-নাবিয়্যু‎‎), তথা ‘বার্তাবাহক’ (আরবি : الرسول আর-রাসুল), যার উপর ইসলামি প্রধান ধর্মগ্রন্থ আল-কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে

প্রথম যখন অহী আসার পরবর্তী কিছু দিন অহী আসা বন্ধ ছিল। ফলে নবী (সাঃ) খুবই অস্থির ও চিন্তিত হয়ে পড়েন। এক দিন আবারও তিনি প্রথমবার হেরা গুহায় অহী নিয়ে আগমনকারী ফেরেশতাকে আসমান ও যমীনের মধ্যস্থলে একটি কুরসীর উপর বসা অবস্থায় দেখেন।

এ থেকে রসূল (সাঃ)-এর মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়। তাই তিনি ঘরে গিয়ে ঘরের লোকদেরকে বললেন, ‘‘আমাকে কোন কাপড় দিয়ে ঢেকে দাও। আমাকে কোন চাদর দিয়ে ঢেকে দাও।’’
এরপর নবীজীর জন্য আল্লাহ রব্বুল আলামীনের পরবর্তী নির্দেশনা ছিল:
‘হে চাদরাবৃত ব্যক্তি! জড়তা ছেড়ে ওঠ এবং মানবজাতিকে সতর্ক ও সাবধান কর’(সূরা আল মুদ্দাসসির : ১-৩)
আল্লাহর নির্দেশে রাসলে করীম (সা:) গোপনে মানুষের মাঝে ইসলাম প্রচার করতে শুরু করেন। তিনি সর্বপ্রথম আপন পরিবার- পরিজন ও বন্ধু-বর্গকে ইসলামের দাওয়াত দেন। সর্বপ্রথম খাদীজা রা. তাঁর দাওয়াত গ্রহণ করেন।
পুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম আবূ বকর সিদ্দীক (রা), ছোটদের মধ্যে আলী ইবনে আবূ তালিব রা. এবং ক্রীতদাসদের মধ্যে যায়েদ ইবনে হারেসা রা. ইসলাম গ্রহণ করেন।রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিন বছর পর্যন্ত গোপনে তার নিকটস্থ’ লোকদের মাঝে ইসলাম প্রচার করেন।

নবুয়ত লাভের তিন বছর পরে (৬১৩ খ্রি.) হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচার করার জন্য অহী পেলেন ।তিনি প্রকাশ্যে সাফা পাহাড়ের পাদদেশে একটি সম্মেলন আহ্বান করলেন এবং পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ঘোষণা করলেন,
‘হে কুরাইশগণ তোমরা একত্রিত হও, হে কুরাইশগণ তোমরা একত্রিত হও। আল-আমিনের এ ঘোষণায় কুরাইশরা জাতির সম্মুখে আসন্ন বিপদ ঘনায়মান ভেবে পাহাড়ের পাদদেশে সমবেত হলো এবং তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো- ব্যাপার কি?
তিনি তখন বললেন, ‘আপনারা একটা কথা বিবেচনা করুন, যদি আমি আপনাদের বলি- এ পাহাড়ের পেছনে একদল শত্রু আপনাদের আক্রমণ করার জন্য অপেক্ষা করছে, আপনারা কি আমাকে বিশ্বাস করবেন? তারা বলল, হ্যাঁ, কেননা আপনি এমন একজন ব্যক্তি যিনি সারা জীবনে একটাও মিথ্যা কথা বলেননি।’
মহানবী (সা:) বললেন, ‘আমি আপনাদের কঠিন শাস্তির সতর্ককারী, হে আবদুল মুত্তালিব বংশ, হে আবদুল মান্নাফ বংশ, হে জোহরা গোত্র, হে হাইয়েফ গোত্র, হে মাখজুন গোত্র, হে আসাদ গোত্র, আল্লাহ আমাকে আদেশ করেছেন- আমি যেন আমার নিকট ও দূর আত্দীয়-স্বজনদের সতর্ক করি।

আমি এর জন্য আপনাদের নিকট হতে কি ইহজীবনে, কি পরজীবনে কোনোরূপ লাভ কামনা করিনি। আমি শুধু আপনাদের বলতে চাই- ‘আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। হজরতের চাচা আবু লাহাব বলল, ‘আজ তুমি ধ্বংস হও। তুমি কি এ জন্যই আমাদের এখানে ডেকেছিলে?’
আবু লাহাবের এ অভিশাপ উচ্চারণে মহানবী (সা:) মনে অত্যন্ত আঘাত পেলেন।জিব্রাইল (আ.) আল্লাহর বাণী সঙ্গে নিয়ে হাজির হলেন-

‘আবু লাহাবের দুই হাত ধ্বংস হোক এবং সেও ধ্বংস হোক। তার ধন-সম্পদ এবং সে যা অর্জন করেছে তা তার কোনোই কাজে আসবে না। অচিরেই সে লেলিহান অগ্নিতে প্রবেশ করবে।’ আল-কোরআন (১১১১ : ১-৩)।
এ ঘটনার পর মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর একত্ববাদ সম্বন্ধে এক হৃদয়গ্রাহী বক্তৃতা দেন। সাম্য, মৈত্রী ও বিশ্বভ্রাতৃত্বের দৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে তিনি সবাইকে ইসলাম কবুল করতে অনুরোধ করেন। পরবর্তী চার বছর প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচারের ফলে নবদীক্ষিতদের সংখ্যা বেড়ে গেল। মক্কার অনেক লোক ওই সময় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন।
⬛️ চলবে…….

Leave a Reply

Your email address will not be published.