তথ্য-প্রযুক্তি

সন্তানকে বুদ্ধিমান করতে চাইলে ৮ বিষয় মেনে চলুন জেনে নেই।

আপনার সন্তানের মনে রাখার ক্ষমতা, খুব অল্প বয়সে পড়তে শেখা, সব বিষয়য়ে তুমুল আগ্রহ, সব সময় প্রশ্ন করা, সংগীত নিয়ে আগ্রহ, খেলার সময় নতুন নিয়ম তৈরির চেষ্টা- এই লক্ষণগুলো আপনার সন্তানের মধ্যে থাকলে বুঝতে হবে সে বুদ্ধিমান।

শিশুর মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা সম্পর্কে আপনার সম্যক ধারণা থাকতে হবে। অনেক সময় এমন হয় যে শিশুর কোনো মানসিক সমস্যা রয়েছে। সেই কারণে শিশু হয়তো কোনো কিছুতে মনোযোগ দিতে পারছে না। কিন্তু বাবা-মা সে কথা জানেনই না। তাই শিশুর উপর পড়াশোনা নিয়ে চাপ বাড়াতে থাকেন। এক্ষেত্রে বাবা-মাকেই শিশুর উপর চাপ কমানোর দায়িত্ব নিতে হবে।

পিতা -মাতার প্রধান লক্ষ্য হল জন্মের সময় থেকে সন্তানকে সঠিক পথে এবং ইতিবাচক উপায়ে গড়ে তোলা। কিন্তু অনেক সময় শিশু লালন -পালনে কিছু ত্রুটি থাকে যার কারণে শিশু ভালো মনের মানুষ হতে পারে না। যাইহোক, যখন সে বড় হবে, সে কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করলে বুদ্ধিমান এবং চটপটে হয়ে উঠবে। খুঁজে বের কর-

1 প্রকৃতির সঙ্গে মিশতে দিন

শিশুর চারপাশের প্রকৃতি শিশুর বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাকে মানুষ ছাড়াও গাছপালা, পশু -পাখির সাথে মিশতে দিন। বাড়িতে কোনো পোষা প্রাণী না থাকলেও শিশুকে আশেপাশের প্রাণীদের সাথে ভয় ছাড়াই মিশতে দিন। পশু -পাখির প্রতি ভালবাসা, তাদের সাথে খেলা – এই সব তাকে সুন্দর মনের অধিকারী করে তুলবে।

2 সঙ্গ দেওয়া

চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, পিতামাতার সঙ্গ সন্তানের মানসিক বিকাশে সবচেয়ে কার্যকর। তাকে সক্রিয় এবং চটপটে করতে ঘন ঘন তার সাথে যোগাযোগ বাড়ান। তাকে পর্যাপ্ত সময় দিন। ছোটবেলা থেকেই মজার ছড়া, নামাটা, প্রচলিত গল্প, গান ইত্যাদি শুনতে থাকুন এটি মস্তিষ্ককে সক্রিয় করবে এবং তার স্মৃতিশক্তি বাড়াবে।

3 মাঝে মধ্যে গান শুনতে দিন

দিনের একটি সময়ে শিশুকে হালকা গান বাজান। যে কোনো হালকা গান শিশুর হাইপোথ্যালামাসকে শান্ত করে, তাকে ভাবায়। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে যে সঙ্গীত শিশুর একাগ্রতা বাড়ায়। স্মৃতি সতেজ রাখে। তাই শিশুকে ছোটবেলা থেকেই গান বা বাদ্যযন্ত্র বাজাতে শেখান। এটি তার সৃজনশীলতাও বাড়াবে।

4 দাবা খেলায় আগ্রহী করুন

যদি শিশুটি আগ্রহী হয়, তাকে চার বছর বয়সে দাবা শিখতে ভর্তি করান। দাবা এমন একটি খেলা যার জন্য ধীর গতিতে এবং বুদ্ধিমান হতে শেখার প্রয়োজন। যখন শিশুটি এই খেলার সংস্পর্শে আসে তখন তার মনের বিকাশ ঘটে, তার স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায় এবং তার একাগ্রতা আসে।

5 নতুন নতুন শব্দ সংগ্রহের আগ্রহী করে তুলুন

ছোটবেলা থেকেই আপনার সন্তানের শব্দভাণ্ডার বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিন। ইংরেজির পাশাপাশি তাকে তার মাতৃভাষায় আগ্রহী করে তুলুন। সেক্ষেত্রে শব্দ বই কাজে আসবে। যতক্ষণ না আপনি পড়া শিখবেন, তার সামনে সঠিক উচ্চারণে পড়ুন। শিশুর কান নতুন শব্দ শিখতে আগ্রহী

6 দুই বছর পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়ানো

বুকের দুধ খাওয়ানো শিশুর বৃদ্ধি এবং বিকাশের চাবিকাঠি। তাই জন্মের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাকে ঘন হলুদ দুধ পান করান। এছাড়াও, কমপক্ষে দুই বছর ধরে আপনার খাদ্যের শীর্ষে বুকের দুধ রাখুন। শিশুর বুদ্ধিমত্তা বিকাশে বুকের দুধের ভূমিকা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অপরিসীম।

7 উপকারী হতে শিখান

আত্মকেন্দ্রিকতা নয়, শিশুকে ছোটবেলা থেকেই উপযোগী হতে শেখান। তিনি প্রতিবেশী থেকে বন্ধুদের সবার কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। এবং আপনি এই বিষয়ে তার উদাহরণ হতে পারেন। ছোটবেলা থেকেই তাকে নি othersস্বার্থভাবে অন্যদের উপকারের সুবিধা শেখানো। শিশুর সহজেই বড় মন হবে।

8 টেলিভিশন থেকে দূরে থাকুন

আপনার সন্তানের মধ্যে সৃজনশীলতা বাড়ানোর জন্য যথাসম্ভব টেলিভিশন থেকে দূরে রাখুন। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, আমরা শিশুদের টিভি দেখার জন্যও চাপ দিই কারণ তারা এটা পছন্দ করে। কিন্তু যেকোনো ছড়া বা গল্পের বই এর চেয়ে তাদের মনে বেশি প্রভাব ফেলে। কল্পনাশক্তি বাড়ায়। নতুন শব্দ শিখতে সাহায্য করে।

আরো পড়ুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.