স্বাস্থ্য

স্বাস্থ্য ভালো রাখার কয়েকটি সহজ পরামর্শ / পুষ্টিকর খাবার সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শরীর ভালো থাকলে মন যেমন ফুরফুরে ও সতেজ থাকে তেমন কাজের স্পৃহাও বাড়ে। আর মন ভালো থাকলে সবকিছুই ভালো লাগে। তাছাড়া সুস্থ, সুন্দর ও ফিট শরীর সবারই কাম্য। স্বাস্থ্যসম্মত জীবন যাপনই পারে কেবন মাত্র মন মেজাজ ঠিক রাখতে এবং সুন্দর ও ফিট শরীর বজায় রাখতে। এখানে এমন কিছু স্বাস্থ্য টিপস দেয়া হল যা অনুসরণ করে আপনিও একটি ভাল ও স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করতে পারেন।

পুষ্টিকর খাবার সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পুষ্টিকর খাবারে উচ্চ ফাইবার,কম ফ্যাট এবং উদ্ভিদ ভিত্তিক খাদ্য বিদ্যমান থাকে। তাছাড়া, স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং কম ক্যালোরিযুক্ত খাবার (যেমন, মুরগি এবং মাছ) খাওয়া যেতে পারে। দিনে অন্ততপক্ষে ছয় থেকে আটটি ফল এবং শাকসবজি খাওয়া উচিত।

স্বাস্থ্য ভালো রাখতে খাবার খাওয়ার বিষয়ে সচেতন ও যত্নশীল হতে হবে। কিছু খাবার রয়েছে, যা খেলে ভালো থাকবে আপনার ত্বক; বাড়বে হজমশক্তিও।  আপনি যদি অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চান, তবে সবার আগে দরকার একটি স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যতালিকা।

আজ আপনারদের জানাব এমন তিনটি খাবার সম্পর্কে, যা আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবে ও স্বাস্থ্য ভালো রাখবে।

এই তিনটি খাবার প্রতিদিন অন্তত একবার খেতেই হবে আপনাকে। ঝকঝকে ত্বক ও ভালো হজম শক্তির জন্য এই তিন খাবার খেতে পারেন।

আসুন জেনে নিই এই তিন খাবার সম্পর্কে-

সবুজ শাকসবজি

প্রতিদিন খাবারের তালিকায় রাখুন সবুজ শাকসবজি। সবুজ শাকসবজিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহের পাশাপাশি ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে, যা আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, ভালো চুল এবং ত্বকের জন্য অপরিহার্য। সবুজ সবজি ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় পেট ভরাও থাকে অনেকক্ষণ। ফলে খিদে কম লাগে ও ওজন কমে।

ডিম

ডিম খেতে পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুব কমই আছে। ডিমে আছে উচ্চ প্রোটিন ও সুস্থ ফ্যাট। ডিম ক্রমাগত এইচডিএল বা ‘ভালো’ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়, যা অনেক রোগের ঝুঁকি কমিয়ে দিতে পারে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সকালের নাস্তায় ডিম খেলে ক্যালোরি কম হয় এবং ওজন কমায়।

বাদাম

বাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসহ স্বাস্থ্যকর চর্বি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস। এটি মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে এবং হৃদরোগের বিরুদ্ধেও সুরক্ষা দেয়। যেমন কাজুবাদাম, আমন্ড, পেস্তা, আখরোট ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে পুষ্টির উৎস। বাদাম কম কার্বোহাইড্রেট খাবার।

চলুন জেনে নেই সুস্থ থাকার কিছু নিয়মাবলীঃ

১। ভোরে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রতিদিন খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠে ৩০ – ৪০ মিনিট হাঁটুন। মনে রাখবেন হাটার চাইতে আর কোনো ভাল ব্যয়াম নেই। এতে মন এবং শরীর সতেজ থাকবে।

২। নিয়ম করে পরিমিত খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন, কম অথবা বেশি খাওয়া দুটাই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। খাবার তালিকায় আঁশযুক্ত খাবার (যেমন শাক সবজি এবং ফলমূল) বাড়ান। চর্বিজাতীয় খাবার কমিয়ে আনুন। ভাজা-পোড়া ও ফাস্টফুড জাতীয় খাবার সম্পূর্ণ বন্ধ করুন।

৩। প্রতিদিন কমপক্ষে ১০-১২ গ্লাস পানি পান করুন। দিনের শুরুতে লেবু ও মধু দিয়ে হালকা গরম পানি পান করুন। খাবারের সময় বেশি পানি পান না করে খাবার শেষে অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা পর পানি পান করবেন।

৪। লালমাংস (গরু, মহিষ, ছাগলের মাংস), মিষ্টি, ঘি, ডালডা জাতীয় খাবার কম খান।

৫। ফলমূল ও শাকসবজি বেশি করে খাদ্য তালিকায় রাখুন। একবারে বেশি করে খাওয়ার চেয়ে অল্প অল্প করে বার বার খেতে পারেন। প্রত্যেক বারের খাবারে দুই রকমের সবজি এবং একটি ফল অর্ন্তভুক্ত করার চেষ্টা করবেন।

৬। প্রত্যেকবারের খাবারের সময় কাঁচা সবজির সালাদ খাবেন। শুধুমাত্র টাটকা শাক সব্জি খাবেন। তৎক্ষনাত রান্না করা খাবার খাবেন, কখনই বাসি খাবার খাবেন না৷

৭। খাবার থেকে সমস্ত ভাজা ও তেল জাতীয় খাবার ত্যাগ করুন। এছাড়াও খাবারের তালিকা থেকে উচ্চ চিনিযুক্ত খাবার যেমন- হালকা পানীয়, আইসক্রিম, ক্যান্ডি এবং কুকিজ বাদ দিন।

৮। আপনার শরিরের প্রকৃতি অনুযায়ী ব্যয়াম করুন। যাদের মেদ বা ভুড়ি জমেছে তারা নিয়মিত ও সঠিক ব্যায়াম করতে পারেন। হাঁটা ও অন্যান্য ব্যয়াম এর পাশাপাশি সম্ভব হলে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট ব্যয়াম করুন।

৯। অতিমাত্রায় চা ও কফির অভ্যাস ত্যাগ করুন তার পরিবর্তে টাটকা ফলের রস খান। শরীরের নিয়মিত যত্ন নিন। শরীরের সৌন্দর্য বজায় রাখুন।

১০। রাতে তাড়াতাড়ি খাওয়া উচিত। খাওয়ার কম পক্ষে দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর শোওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

১১। প্রতিদিন রাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমের অভ্যাস গড়ুন। সুস্বাস্থ্য ও ফিগারের জন্য নিয়মিত ও পরিমিত ঘুম প্রয়োজন। দিনে শোওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করে রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলুন। রাতে শোয়ার আগে ঢিলেঢালা পোশাক পরুন।

স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। কারণ আপনার শরীর যদি ভালো না থাকে তাহলে কোন কিছুতেই আপনি ভালো থাকতে পারবেন না। তাই সবার আগে চাই সুস্থ শরীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published.