তথ্য

সয়াবিন তেলের দাম বাড়ার কারন। razuaman.com – 2022

সয়াবিন তেলের দাম বাড়ার কারন। razuaman.com – 2022

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম স্থিতিশীল ও উৎপাদন বাড়লেও দেশে সেটার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

২০২০ সালের এপ্রিলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম ছিল ৭০০ ডলার। ২০২১ সালের এপ্রিলে হয় ১৪৫০ ডলার। অক্টোবরে ১৬৬০ ডলার। এরপর দামও স্থিতিশীল হয়েছে, উৎপাদনও বেড়েছে। তারপরও দেশের বাজারে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দাম। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বার বার দর নির্ধারণ করে দিলেও বাজারে সেটার প্রভাব নেই।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য অনুবিভাগের পর্যালোচনা ও পূর্বাভাস সেলের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ২০২০ সালের জুনের পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ভোজ্যতেলের দর নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর। মোট চাহিদার ৯৫ ভাগেরও বেশি আমদানি হয়।

এদিকে, করোনার মধ্যেও বিশ্বে সয়াবিনের উৎপাদন বেড়েছে। তবু বেড়েছে দাম। বিশ্লেষকেরা বলছেন, উৎপাদক দেশগুলো রফতানি বাড়ালেও ডলারের বিপরীতে ওই দেশগুলোর মুদ্রা শক্তিশালী হওয়াতেই তেলের দাম বেড়েছে। মার্কিন বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনডেক্সবক্স-এর তথ্যানুযায়ী, গতবছর থেকেই সয়াবিন থেকে তৈরি প্রাকৃতিক জ্বালানি বায়োডিজেলের উৎপাদন কমেছে। এতেও বেড়েছে সয়াবিন তেলের উৎপাদন।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে যেখানে বিশ্বব্যাপী ৫ কোটি ৮০ লাখ টন সয়াবিন তেল উৎপাদিত হয়, সেখানে ২০২০ সালে হয়েছিল ৬ কোটি ১০ লাখ টন। তারপরও কেন দাম বাড়লো? কারণ হিসেবে ইনডেক্সবক্স বলছে উৎপাদক দেশগুলো রফতানি শুল্ক বাড়িয়েছে বলেই দাম বেড়েছে।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সয়াবিন তেল উৎপাদিত হয় চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলে। এর মধ্যে ২০১৯ সালে চীন ১ কোটি ৮০ লাখ টন ও যুক্তরাষ্ট্র ৮০ লাখ টন সয়াবিন তেল উৎপাদন করে। যা বিশ্বের মোট উৎপাদনের প্রায় ৪৫ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ২০১৯ সালে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ৮০ লাখ টন। ২০২০ সালে বিভিন্ন দেশে উৎপাদিত হয়েছে ৬ কোটি ১০ লাখ টন।

তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে টিকে গ্রুপের পরিচালক শফিউল তসলিম সাংবাদিকদের জানান, গত ১৯ জানুয়ারি বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বসার পর থেকেই সয়াবিন তেলের দাম কিছুটা বেড়েছিল। এখন সোমবার থেকে নতুন দর কার্যকর করা হবে।
সয়াবিন তেলের দাম লিটারে বাড়ল আরও ৮ টাকা

সাম্প্রতিক সময়ে ঊর্ধ্বমুখী ভোজ্যতেলের বাজারে আরও দামি হল সয়াবিন; লিটারপ্রতি বোতলজাত এ তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে আট টাকা।

মিল মালিকদের আবেদনের এক মাস পর তাদের প্রস্তাব মতোই এমন দাম বাড়িয়েছে সরকার, যা সোমবার থেকে কার্যকর হবে।

রোববার বিকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের বৈঠকে নতুন দর কার্যকরের সিদ্ধান্ত হয়।

মন্ত্রণালয়ের আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব এএইচএম সফিকুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এখন থেকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের প্রতি লিটারের সর্বোচ্চ মূল্য হবে ১৬৮ টাকা, পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ৭৯৫ টাকা, খোলা সয়াবিনের লিটার হবে ১৪৩ টাকা এবং সুপা ।

গত ১৯ অক্টোবর সরকার সর্বশেষ সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারিত করেছিল, যাতে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৬০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৩৬ টাকা ধরা হয়েছিল।

আর বোতলজাত ৫ লিটার সয়াবিন তেলের দাম ধরা হয়েছিল ৭৬০ টাকা এবং পাম তেলের দাম ছিল ১১৮ টাকা।

নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ৮ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ৭ টাকা, সয়াবিন তেলের পাঁচ লিটারের বোতলে ৩৫ টাকা এবং পাম তেলের দাম প্রতিলিটারে ১৫ টাকা বেড়েছে।

বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, “গত ১৯ জানুয়ারি তেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে দেখা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার ফলে এটা এডজাস্ট করা দরকার। তাদেরও কথা ছিল এটা এডজাস্ট না করলে তারা এলসি খুলতে পারবেন না, তাদের লস হচ্ছে। এসব কিছু বিবেচনায় নিয়ে দামটা বাড়ানো হল।”

ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবের পর বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন ১৫ দিনের মধ্যে দাম বাড়ানো হবে না।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল- এবার সরাসরি কারখানা পরিদর্শন করে দাম বাড়ানোর সবগুলো অনুঘটক পর্যালোচনার পর দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হবে।

তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে টিকে গ্রুপের পরিচালক শফিউল তসলিম সাংবাদিকদের জানান, গত ১৯ জানুয়ারি বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বসার পর থেকেই সয়াবিন তেলের দাম কিছুটা বেড়েছিল। এখন সোমবার থেকে নতুন দর কার্যকর করা হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.