স্বাস্থ্য

১ বছরের শিশুর খাবার তালিকা 12 months old baby food chart in bengali

(18 months baby food chart in bengali)।

বড়ো হওয়ার সাথে সাথে ধীরে ধীরে পরিমান বাড়ান(bacchar khabar talika)।চেষ্টা করুন চিনির পরিবর্তে গুড় ব্যাবহার করতে। আর সাধারণ নুনের বদলে বিভিন্ন মিনারেল সমৃদ্ধ রক সল্ট বা হিমালয়ান পিঙ্ক সল্ট ব্যাবহার করা ভালো।

এখন থেকে শিশুকে গরুর দুধ খাওয়াতে পারেন। বাচ্চাকে অন্তত ৩ বছর অবধি ফুল ফ্যাট মিল্ক খাওয়াবেন। টোন্ড মিল্ক খাওয়াবেন না। এতে শিশু প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম পাবে।

শিশুদের খাবার তালিকা

আপনি যদি শিশুকে এখনো ব্রেস্ট ফীড করান বা ফর্মুলা মিল্ক খাওয়ান তাহলে তা চালিয়ে যেতে পারেন।বাচ্চা প্লেন গরুর দুধ খেতে না চাইলে অন্যান্য খাবারের সাথে ওট্স, ভাত বা রুটির সাথে মিশিয়ে খাওয়ান(বাচ্চার পুষ্টিকর খাবার)।

সব মিলিয়ে শিশুকে ম্যাক্সিমাম ৪০০ মিলি মতো দুধ খাওয়াতে পারেন। তবে চেষ্টা করবেন এর থেকে খুব বেশি না খাওয়াতে তাহলে সবসময় পেট ভরে থাকবে, সাধারণ রান্না করা কঠিন খাবার আর খেতে চাইবেনা।

শিশু না খেতে চাইলে কিভাবে খাওয়াবেন

(How Can you Introduce Variety of food to your 1 to 1.5 years old baby in Bengali )
বাচ্চাকে কখনোই জোর করে খাওয়াবেন না। প্রত্যেক শিশুর টেস্ট ও খেতে শেখার ধরণ আলাদা। বাচ্চাকে নিজে চামচে বা হাতে ধরে খেতে দিন। কোনো ছোট ফলের টুকরো বা রান্না করা সবজির টুকরো, সেদ্ধ ডিম , পনিরের টুকরো ইত্যাদি হাতে দিন(1year baby food chart in Bangla)।

শিশুঠিক ভাবে হয়তো এখনই বাটি ধরে বা চামচ ধরে খেতে পারবেনা ,ওকে একটু হেল্প করুন। খেতে গিয়ে হয়তো ফেলবে বা গায়ে মেখে ফেলবে 😄 ,কিন্তু তাতে বাধা দেবেন না। আরো উৎসাহ দিন। খাওয়ানোর সময় ওর দিকে তাকিয়ে থাকুন ,হাসুন , আদর করে খাওয়ান। যতটা সম্ভব বাচ্চার সাথে এনগেজ থেকে ওকে খেতে উৎসাহ দিন। এতে বাচ্চাদের খাওয়ার উৎসাহ বাড়ে।

DHAKA SHISHU (CHILDREN) HOSPITAL
Dhaka Shishu Hospital Doctor List

শিশুকে ৮-৯ মাস থেকেই একটু একটু করে আমিষ খাওয়ার দেওয়া শুরু হয়ে যায় ,কিন্তু মনে রাখবেন তার পরিমান কিন্তু খুব বেশি না। শিশুকে একই দিনে ডিম, মাছ , মাংস খাওয়াবেন না।
১ বছরে গিয়ে শিশুর বৃদ্ধির হার কিছুটা কমতে শুরু করে ফলে কোনো কোনো বাচ্চার ক্ষিদে একটু কমে যেতে পারে। এছাড়া অনেক শিশু হাঁটতে শুরু করে ফলে খাওয়ার চেয়ে ঘরময় ছুটে বেড়াতে ও খেলে বেড়াতে বেশী ভালোবাসে।

প্রত্যেক দিন ক্ষিদে অনুযায়ী শিশুর খাবার খাওয়ার পরিমানে কম বেশি হতে পারে। তাবলে অধৈর্য হবেন না। বাচ্চাকে বিভিন্ন ধরনের ও স্বাদের খাবার দিন। কোনো কোনো খাবারের স্বাদ হয়তো শিশুর ভালো না লাগতে পারে , রিজেক্ট করতে পারে। কোনো খাবার রিজেক্ট করলে তখনি জোর না করে আবার কিছুক্ষণ পর বা কিছুদিন পর ট্রাই করুন।

প্রতিদিন কতটা পরিমানে খাওয়াবেন ও কত বার খাওয়াবেন

(How much food you can give to your 12 to 18 months old baby in Bengali )

১ থেকে দেড় বছরের বাচ্চাদের দিনে ৩ বার ভারী খাবার ও দুই বার স্ন্যাক বা টিফিন খাওয়ান। এর মাঝে বাচ্চাকে ব্রেস্টফীড বা ফর্মুলা খাওয়ান। UNICEF এর নির্দেশ অনুসারে বাচ্চাকে ২ বছর অবধি ব্রেস্টফীড করান। প্রতিদিন বাচ্চাকে কতটা খাওয়াবেন তার একটা রাফ আইডিয়া দেওয়া হলো(1.5 year old baby food chart in bengali)।

  • ফল -৩/৪ কাপ থেকে ১ কাপ
  • দানাশস্য – ১ কাপ
  • শাক সবজি – ৩/৪ কাপ থেকে ১ কাপ
  • দুগ্ধ জাতীয় খাদ্য- ১ কাপ
  • আমিষ বা প্রোটিন – ১/৪ কাপ থেকে ১/৩ কাপ
  • মশলা – সামান্য পরিমানে

১ থেকে ১.৫ বছরের শিশুর খাদ্য তালিকা (12-18 months baby food chart in Bengali)
১ থেকে ১.৫ বছরের শিশুদের খাওয়ার সিডিউল কেমন হতে পারে তার একটা চার্ট দেওয়া হলো(দেড় বছরের শিশুর খাবার তালিকা )। শিশুর চাহিদা অনুযায়ী আপনি এর পরিবর্তন করতে পারেন। আপনি যদি ভেজিটেরিয়ান হন তাহলে আমিষ খাবারের পরিবর্তে মাখন ,পনির ,ছানা ,এই সব দিয়ে খাবার বানাতে পারেন।

1 to 1.5 year old baby food chart in bengali
১২ থেকে ১৮ মাসের শিশুরা বাড়ির তৈরি প্রায় সব খাবারই খেতে পারে। শিশুকে দুধ খাওয়াতে ভুলবেন না। সকালে ঘুম থেকে উঠে বা ঘুমোতে যাওয়ার আগে ওকে গরুর দুধ ও খাওয়াতে পারেন। প্রথম সপ্তাহে আপনি আগে যা কিছু খাইয়েছেন সেগুলোই একটু মডিফায়েড করে খাওয়াতে পারেন। নতুন রেসিপির মধ্যে আলুর পুর দিয়ে ধোসা বা ইডলি ট্রাই করতে পারেন।

১ বছরের শিশুর খাবার তালিকা

শিশুকে কোনো প্যাকেট জাতীয় মিষ্টি পানীয় বা ফলের জুস্ দেবেন না। তার চেয়ে বরং বাড়িতে তৈরী বিভিন্ন ফলের স্মুদি বা কাস্টার্ড ট্রাই করুন। শিশু অনায়াসে এই সব খেয়ে নেবে।

শিশু সব কিছু খেতে শিখলেও একসাথে বিভিন্ন নতুন খাবার খাওয়াবেন না। সব সময় তিন দিনের নিয়ম ফলো করুন। ও শিশুর এলার্জি হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখুন। ওপরের চার্ট(Baby food chart in Bengali) গুলি শুধুমাত্র আইডিয়া দেওয়ার জন্য। যেকোনো খাবার নিয়ে কোনো রকম ডাউট থাকলে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন। শিশুকে পরিমান মতো জল খাওয়ান। শিশুর যদি কোষ্ঠ্য কাঠিন্যের সমস্যা থাকে তাহলে ১ বছরের পর থেকে ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে।

এই প্রতিবেদনটি যদি ভালো লেগে থাকে ও কাজে লেগে থাকে তাহলে এখনই অন্য বাবা মায়েদের সাথে শেয়ার করুন। আর আপনার মতামত বা কিছু প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট বক্সে লিখে আমাদের জানান।

বাড়িতে তৈরি সব ধরনের খাবার দিন,ব‍্যালেন্সড ডায়েট দিন।খাওয়ারে শাক, সব্জি,ফল এবং নর্মাল ভাল,রুটি,ব্রেড রাখুন। বাড়ন্ত বাচ্চাকে হাই প্রোটিন যুক্ত খাবার দিন। প্রত‍্যেক Meal-এ প্রোটিন যুক্ত খাবার যেমন ডিম,চিকেন,ডাল,সয়াবিন,মাছ,পনির,দুধ যে কোনো একটি রাখুন।

আশাকরি মোটামুটি একটা আইডিয়া দিতে পারলাম। আরও যদি কোনো information এর প্রয়োজন হয় razuslam@gmail.com এ mail করতে পারেন অথবা নিচে কমেন্ট করতে পারেন।

আরও দেখুন :

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button